পরিবারের মাদকাসক্ত সদস্যকে সাহায্য করার ৫টি উপায়

তারিখ

তীব্র মাদকাসক্তি প্রিয়জনের জন‍্য হতাশা জনক হতে পারে। আসক্তির মধ‍্যে দিয়ে যাওয়া প্রিয়জনকে প্রত‍্যক্ষ করা আসলেই হৃদয়বিদারক একটি বিষয়। তাই পরিবারের মাদকাসক্ত সদস্যকে সাহায্য করার বিষয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে। আমরা ইতিমধ্যে “মাদকদ্রব্যে মানুষের কেন এত আসক্তি” সম্পর্কে জেনেছি এবং এটি কিভাবে আপনার প্রিয়জনকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে সে সম্পর্কে সচেতন হয়েছি।

এখনই সময় আপনি তাদের কার্যক্রম লক্ষ্য করুন। তাদেরকে এই বিপজ্জনক অভ‍্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করার জন‍্য পদক্ষেপ নিন। তারা যদিও দ্বিধাগ্রস্ত ও বিপথগামী হতে শুরু করেছে এবং নিজেদের পরিবর্তন করতে অনিচ্ছুকও হতে পারে। তবে আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আপনি তাদের মাদক মুক্ত উন্নত জীবন যাপন করতে দেখতে চান না কি মাদকতার আসক্তিতে তাদের জীবন শেষ হতে দেখতে চান?

আপনি যদি আমাদের নিবন্ধন টি পড়েন তাহলে আপনি মাদকাসক্তির কারণ গুলো জানতে পারবেন এবং কিভাবে এটিকে প্রতিরোধ করতে পরিবারের মাদকাসক্ত সদস্যকে সাহায্য করবেন তাও জানতে পারবেন। আশা করি এই নিবন্ধনের শেষ পর্যন্ত সাথেই থাকবেন এবং এখানে উল্লেখিত তথ‍্যগুলো আপনার জন‍্য সহায়ক হলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আপনার বন্ধুদের সহযোগিতা করুন।

পরিবারের সদস্য টি কেন মাদকাসক্ত হল সে সম্পর্কে আগে জানুন

আপনা পরিবারের প্রিয় সদস্য টি কেন মাদকাসক্ত হল এটি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা আপনি কখনও এড়িয়ে যেতে পারবেন না। কেন সে মাদকাসক্ত হল সে সম্পর্কে আগে জানুন তার পর তার জন্য সে মুতাবেক ব্যবস্থা নিন। তাকে এমন কিছু দিয়ে অবস্থার পরিবর্তন করার চেষ্টা করুন যেন সে তার নিজের অবস্থা সম্পর্কে বুঝতে পারে। এবং এইটিই তার মাদকাসক্ত কাটিয়ে উঠতে মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করবে। শারীরিক বা মানসিক কিছু যেমন উদ্বেগ, হতাশা এমনকি আসক্তি যাই হোক না কেন আপনি সর্বদা এর কারণ এবং ফলাফল গুলো অধ‍্যয়ন করবেন।

পরিবারের মাদকাসক্ত সদস্য টি কেন নেশাগ্রস্ত হয় তা সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেই-

মস্তিষ্ক আমাদের শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করে, এটি স্নায়ুর মাধ্যমে অঙ্গে সংকেত প্রেরণ করে এবং কোন জিনিস অনুভব করতে সহায়তা করে। তবে আপনি কি জানতেন যে মস্তিষ্ক হরমোন তৈরি করে? যদিও এটি সম্পর্কে আপনি নাও নিশ্চিত হতে পারেন তবে বিজ্ঞান এটি সম্পর্কে বেশ নিশ্চিত। এর মধ্যে কিছু হরমোন নির্দিষ্ট হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে এবং কিছু পরিস্থিতিতে আমাদের প্রতিক্রিয়া দেখায়।

ডোপামিন সুখী হরমোন হিসেবেও পরিচিত, প্রতিবারের মতো যখন আনন্দের কিছু ঘটে তখন তা আমাদের মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরী হয়। মাদকতারও একইরকম প্রভাব রয়েছে যা মস্তিষ্কে এই হরমোন (ডোপামিন) তৈরি করতে পারে। মাদকাসক্ত ব্যাক্তির মস্তিষ্ক ডোপামিন তৈরির জন্য মাদকতার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে ফলে ব‍্যক্তির মাদকতার প্রতি আসক্তি আরোও বেড়ে যায়।

মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি সহজ নয় জেনেও সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে

কোন একটি বিষয়কে সঠিক ভাব সম্পন্ন করার জন‍্য অন্যতম কঠিন ব‍্যাপার হলো যখন, আপনি যে ব‍্যক্তির কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার অবস্থান থেকে বের হয়ে আসছে না। আপনি অবশ্যই এই বিষয়ে আরও অনেক সমস্যার সম্মুখীন হবেন।

তাদের মন মাদকতার নেশায় আসক্ত তা সম্পর্কে সচেতন হন। এগুলো ছাড়া একদিন থাকা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। কখনো কখনো যখন আমরা কোন কিছুর সাথে যুক্ত হয়ে যাই তখন এটি ছেড়ে দেওয়া আমাদের জন‍্য কঠিন হয়। তবে মাদকাসক্তদের ক্ষেত্রে এটা বেশি প্রযোজ্য। তাই তারা আপনার সাথে অভদ্র এবং অসংবেদনশীল আচরণ করতে পারে। তবে আপনি যদি সত‍্যিই তাদের জন‍্য কিছু করতে চান তাহলে এই সিদ্ধান্তের প্রতি অটল থাকুন। ক্রমাগতভাবে তাদেরকে চিকিৎসার জন‍্য বোঝান।

তাদের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে

তাদের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে

বিশ্বাস সর্বকালের সংবেদনশীল শব্দ হলেও বিতর্কিত বিষয়। কেউ যদি আপনাকে বিশ্বাস না করে তবে তাকে বিশ্বাস করানোর কোন উপায় নেই। এটি কেবল আসক্ত ব‍্যক্তিই নয় সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ‍্য। কাউকে মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত করা নিঃসন্দেহে একটি সাহসী পদক্ষেপ।

আপনি যদি তাদের বিশ্বাস অর্জন করতে চান তাহলে যা করতে হবে তার একটি তালিকা নিম্নে দেয়া হল-

  • তাদের সমস্যার কথা শুনুন। তাদেরকে প্রশ্ন করুন এবং যখন তিনি বিব্রত বোধ করবেন তখন থেমে যান। তারা ধীরে ধীরে বলবেন।
  • তারা যেভাবে মাদকাসক্তে জড়িত একইভাবে তাদের সাথে জড়িত হবেন না। তা অ‍্যালকোহল হোক বা মাদক। আপনার এমন কিছু করা উচিত নয় যা আপনাকে আপনার লক্ষ্য থেকে সরিয়ে দেয়। সেক্ষেত্রে তারা আপনার উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে।
  • আপনার যদি এগুলো সম্পর্কে ধারণা না থাকে তাহলে তাদেরকে বক্তৃতা দিবেন না। তারা আপনার সাথে থেকে আরও খারাপ বোধ করতে পারে। তার পরিবর্তে, আপনি তাদের সাথে দৈনন্দিন কাজকর্ম ভাগ করে নিন। তাদের সাথে ঘুরতে যেতে পারেন, তাদের শখ সম্পর্কে জানতে পারেন এবং তারা যে বিষয়ের প্রতি আগ্রহী সে বিষয়ে কথাও বলতে পারেন। তাদেরকে চাপ প্রয়োগ না করে মাদক থেকে দূরে সরানোর চেষ্টা করুন।

নিজের প্রতি যত্নবান্ হতে হবে

হ‍্যাঁ, আপনি ঠিক দেখছেন। আপনি আপনার পরিবারের মাদকাসক্ত সদস্যকে সাহায্য করার সুযোগ পেয়েছেন। তাই আপনার নিজের ও যত্ন নেয়া দরকার। যেহেতু আপনি একজন মাদকাসক্ত ব‍্যক্তির যত্ন নেওয়ার জন‍্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন তাই আপনার নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়াকেও অগ্রাধিকার দেয়া জরুরি।

কাউকে পরিবর্তন করার এবং মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত করার জন্য অত্যন্ত সাহস এবং সংকল্পের প্রয়োজন। পথ হারানো চলবে না। কোথায় থামতে হবে সেটা আপনাকে বুঝতে হবে। কারণ এমন ঘটনাও ঘটতে পারে অপব‍্যবহারের ফলে আপনি দুর্বল হয়ে যেতে পারেন এবং নিজে হতাশায় ডুবে যেতে পারেন। হতাশা এমন একটি জিনিস যেটাকে কখনোই নিজের ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়া উচিত না।

পেশাদারদের সহায়তা নিন

একটা জিনিস আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে আপনি একা এর পুরো দায়িত্ব নিচ্ছেন না। আপনার লক্ষ্য একা তাদেরকে পরিবর্তন করা নয় বরং পেশাদারদের সাহায্য নিয়ে তাদের সুস্থ করে তুলতে হবে। অনেকেই এই সত‍্যটির ভুল ব‍্যাখ‍্যা করে থাকেন। তারা ভাবেন তাদের কারো সাহায্য নেবার দরকার নেই।

আবশ‍্যই আপনাকে আগে জানতে হবে আপনি কি কি করতে পারবেন। মাদক গ্রহণ করা বন্ধ করার জন্য একজন আসক্ত ব‍্যক্তির মস্তিষ্ক কে কিভাবে পরিবর্তন করবেন তা ডাক্তার ছাড়া জানা সম্ভব না। এটি থেকে সম্পূর্ণ মুক্তির জন‍্য কিছু মেডিকেল শর্ত এবং ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। সুতরাং, সর্বদা নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি এটি একা করছেন না। বরং আসক্ত ব‍্যক্তিকে পুনর্বাসন কেন্দ্রের সাহায্য নিতে আপনি রাজি করাতে পারেন। আর এর জন্য আমার হোম হতে পারে আপনার কাঙ্ক্ষিত পুনর্বাসন কেন্দ্র।

উপসংহার

মানুষের কোনো স্বভাব বা কাজের মধ্যে পরিবর্তন আনার জন‍্য অনুপ্রেরণা একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।

বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, মাদকতার নেশা থেকে কাউকে মুক্ত করার জন‍্য কোনও নেশাগ্রস্ত ব‍্যক্তির প্রিয়জন যদি তার পাশে থাকে তাহলে তার ফল ভালো হয়। তাই মাদকাসক্ত ব‍্যক্তিকে ঘৃণা বা অবহেলা করা যাবে না। সবসময় তাকে তার নেশাগ্রস্ত জীবন থেকে বের করে আনার চেষ্টা করুন।

More
articles

পরিবারের মাদকাসক্ত সদস্যকে সাহায্য করার ৫টি উপায়

তীব্র মাদকাসক্তি প্রিয়জনের জন‍্য হতাশা জনক হতে পারে। আসক্তির মধ‍্যে দিয়ে যাওয়া প্রিয়জনকে প্রত‍্যক্ষ করা আসলেই হৃদয়বিদারক একটি বিষয়। তাই পরিবারের মাদকাসক্ত সদস্যকে সাহায্য করার

বাংলাদেশের কোন রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার সেরা এবং কেন?

আমার হোম বাংলাদেশের সেরা রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার । মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ছাড়াও মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করাই এই রিহ্যাব সেন্টারের প্রধান উদ্দেশ্য। কর্মী এবং ডাক্তারদের বন্ধু-সুলভ ও সহযোগিতাপূর্ণ

কিভাবে মাদকাসক্তি কাটিয়ে উঠবেন?

“কিভাবে মাদকাসক্তি কাটিয়ে উঠবেন?” প্রশ্নটি একজন মাদকাসক্তের মনে সর্বদয় উকি দেয়। ওষুধ আবিষ্কারের পর থেকেই একটি বহুল আলোচিত মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্য জনিত জটিলতা হচ্ছে

আপনাকে সাহায্য করার জন্য আমরা আছি

আপনার যোগাযোগ গোপনীয়তা এবং সহানুভূতি সঙ্গে আচরণ করা হবে. আমরা আপনাকে চাপ দিতে আগ্রহী নই, আমরা শুধুমাত্র আপনার বোঝা কমাতে এবং সহায়তা প্রদান করতে চাই। যেকোন প্রশ্নের সাথে যোগাযোগ করুন, তা যতই ছোট হোক না কেন।